রাবিতে সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর মতবিনিময় ও আলোচনা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ বুধবার ‘শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর আহŸায়ক পীযূষ বন্দোপাধ্যায়। উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে অন্যদের মধ্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. নাসির উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, আমাদের এই সমৃদ্ধ জনপদের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ আসনে যিনি অধিষ্ঠিত তিনি বাঙালি জাতির জনক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তাঁর দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব ও অজেয় ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে পরাধীন জাতিকে স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর দূরদৃষ্টি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নির্মল জীবনদর্শন দিয়ে জাতিকে তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন আজীবন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী। সব ধর্মের সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ছিলো তাঁর জ্যোতির্ময় জীবনদর্শন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান দেশের সব ধর্মের মানুষের ছিলো এই মহান নেতার প্রতি অগাধ আস্থা। ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলাদেশের সকল মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে।’ তবে তিনি একথাও বলেছিলেন যে, ‘পবিত্র ধর্মকে কেও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।’ বঙ্গবন্ধুর এই অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দর্শন এবং তাঁর নেতৃত্বে সর্বধর্মের সমন্বয় ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পছন্দ হয়নি। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জাতির ইতিহাসকে বিপরীতমুখী করার অপচেষ্টা চালায়। তবে জাতির সৌভাগ্য এই যে পিতার জীবনদর্শনকে আত্মস্থ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শি প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে দেশ ও জাতিকে আবার ইতিহাসের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছেন, আবার ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি।  ললাটে যার নিত্য অর্জিত গৌরব চিহ্ন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী সামনে রেখে আগামী ২০২০ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রীতি বাংলাদেশ এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানায় আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করতে আগ্রহী। যা হবে মহান নেতা, প্রিয় মাতৃভূমি এবং ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।
এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর লায়লা আরজুমান বানু, প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরে প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহŸায়ক প্রফেসর মো. মজিবুর রহমান, ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউট পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সম্প্রীতি বাংলাদেশের মো. হেলাল উদ্দিন, মিহির কান্তি ঘোষাল, তাপস হালদার, অনয় মুখার্জি, মো. আবু তালেব ও দীপন কুমার কর্মকারও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেহজাবিন সাঈদা কথা ও অহনা সিংহ।

প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার
প্রশাসক


All rights reserved © ICT Center, Unversity of Rajshahi 2016.
webmaster@ru.ac.bd