রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : মিডিয়া সেন্টার স্থাপন বিষয়ে মতবিনিময়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবিত ৫০ বছর মেয়াদী ‘মাস্টার প্ল্যান’-এ মিডিয়া সেন্টার অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়ে মতবিনিময় আজ সোমবার সকাল ১০টায় শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। মাস্টার প্ল্যান কমিটি কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ। মাস্টার প্ল্যান কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন।
এই মতবিনিময় সভা দুই পর্বে বিভক্ত ছিলো। প্রথম পর্বে উদ্বোধনী অংশে উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের স্বার্থেই একটি মাস্টার প্ল্যান থাকা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগী। সে লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মাসটার প্ল্যানের আলোকে আগামী ৫০ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। বর্তমান বিশ্বে অবাধ তথ্য প্রবাহের স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মিডিয়া সেন্টার স্থাপন আবশ্যক বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। সে ধারণা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ইস্টেকহোল্ডারের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই আয়োজনের মাধ্যমে উপস্থিত গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনাকে টেকসই করতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যান নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মতামত এর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মাস্টার প্ল্যান কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে গতিশীল ও আগামীর জন্য গড়ে তুলতে হলে একটি নতুন মাস্টার প্ল্যান একান্ত প্রয়োজন। সে লক্ষে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যা ক্রমে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও স্থাপনাসমূহের নামকরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে একটি আর্কাইভও প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরো কিছু পরিকল্পনার বাস্তবায়ন  চলছে। এই মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ কর্তৃপক্ষের গৃহীত পরিকল্পনাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই এ ধরনের একটি মিডিয়া সেল অন্তর্ভুক্তির কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। বিশেষ অতিথি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিসরে মিডিয়ার যেমন ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরেও এর শিক্ষা, ব্যবহার ও কার্যক্রমের সুযোগ আছে।
জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে মাস্টার প্ল্যান কমিটির অন্যতম সদস্য ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর রকীব আহমদ ও প্রফেসর মো. রেজাউর রহমান মাল্টিমিডিয়া প্রজেকশনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যান প্রথম পর্বের বিভিন্ন কারিগরী দিক ও আনুসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার প্ল্যান কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসরে মিডিয়া সেন্টার: দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিডিয়া সেন্টারের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে আমাদের দেশীয় বাস্তবতায় এর রূপরেখা সম্পর্কে মতবিনিময় করার জন্য উপস্থিত সুধীজনদের আহ্বান জানান। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেয়া হয়। প্রশ্নকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা প্রফেসর মো. ফখরুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের প্রফেসর মো. তারিকুল হাসান, আইসিটি সেন্টারের প্রশাসক প্রফেসর মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা, স্থানীয় সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, সোনার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, মো. আনিসুজ্জামান (ইত্তেফাক), মেহেদী হাসান শ্যামল (মোহনা টিভি),  জিয়াউল গণি সেলিম (এসএ টিভি), মো. গোলাম রব্বানী (মাছরাঙা টিভি),  জাবিদ অপু (যমুনা টিভি) প্রমুখ।  এই পর্বের মডারেটর ছিলেন মাস্টার প্ল্যান কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া ।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের মিডিয়া সেন্টার অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং মাস্টার প্ল্যান কমিটির সভাপতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ যে প্রস্তাবিত ৫০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যান তিন পর্বে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হবে। এর প্রথম পর্ব ৫ বছর মেয়াদী (২০১৮-২০২২), দ্বিতীয় পর্ব ২০ বছর মেয়াদী (২০২৩-২০৪২) ও তৃতীয় পর্ব ২৫ বছর মেয়াদী (২০৪৩-২০৬৭)।
এই অনুষ্ঠানে পিআইডি ও জেলা তথ্য অফিসের প্রধান, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশের টেলিভিশনের স্থানীয় প্রধান, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ১৫০জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, মিডিয়া সেন্টার অন্তর্ভুক্তিকরণের উপর অংশগ্রহণকারীদের মতামতের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নমালার মাধ্যমেও উপস্থিত সকলের লিখিত মন্তব্য গ্রহণ করা হয়।

প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার
প্রশাসক


All rights reserved © ICT Center, Unversity of Rajshahi 2016.
webmaster@ru.ac.bd