রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ৬ জুলাই ২০১৯:
নানা আয়োজন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৌরবের ৬৬ বছর’ শীর্ষক কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা এবং প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উপাচার্য প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এসময় সেখানে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারী, সিন্ডিকেট সদস্য, অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি, প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপাচার্য সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে একটি  বকুল গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। শুরুতেই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশিষ্ট সকলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক মরহুম মাদার বখশ্সহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। উপাচার্য বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে চলেছে। দেশের আন্দোলন-সংগ্রামেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম ¯^প্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা যেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সে ¯^প্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের গৃহিত কর্মসূচির আলোকে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভৌত কাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নসহ পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রসারে কাজ চলছে। তিনি বলেন, আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রোল-মডেলে পরিনত করতে চাই যাতে এখান থেকে বিশ্বমানের সুনাগরিক তৈরী হয়। সে লক্ষ্য অর্জনে উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে জাতির কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের মাহাত্য বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি ঘটাতে হলে বর্তমান সরকারের গৃহিত ভিশন ২০৪১ এবং ডেলটা প্লানের সাথে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ৫০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্লান গ্রহন করেছি। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সদস্য-সচিব ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর লায়লা আরজুমান বানুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা।
এই অনুষ্ঠানে ৬৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ঐতিহ্যের ৬৬ বছর’ শীর্ষক স্মারকপত্রের পাঠ উন্মোচন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়ার তত্ত¡াবধানে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার স্মারকপত্রটির সম্পাদনা করেন এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারী কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে আরো ছিল, বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে খেলাধুলা ও ৫:৩০ মিনিটে শহীদ মিনার মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার
প্রশাসক


All rights reserved © ICT Center, Unversity of Rajshahi 2016.
webmaster@ru.ac.bd